নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিনের ওপর প্রকাশ্যে কুপিয়ে হামলা
হাতিয়ায় বিএনপি নেতার ওপর প্রকাশ্যে কুপিয়ে হামলা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি নেতার ওপর প্রকাশ্যে কুপিয়ে হামলা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বিএনপির স্থানীয় নেতা জসিম উদ্দিনকে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে চানন্দী ইউনিয়নের শিউলি একরাম বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জসিম উদ্দিন (৪৫) বর্তমানে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ ও আহত নেতার পরিচয়

জসিম উদ্দিন চানন্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা 'ধর ধর' বলে চিৎকার করতে করতে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পুলিশ ও নৌবাহিনীর তৎপরতা

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি টহলে থাকা নৌবাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে।

হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির দাবি ও তদন্তের অগ্রগতি

বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, বুধবার রাতে জসিম উদ্দিন বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে জোরালোভাবে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনা হাতিয়া এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।