বাগেরহাটে ভোটারদের টাকা বিতরণ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত আটজন
বাগেরহাটের সদর উপজেলায় ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় দলের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার বারুইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে।
জামায়াতের অভিযোগ: ধানের শীষের সমর্থকদের টাকা বিতরণ
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় জামায়াত কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আহত জামায়াতের ছয় কর্মীকে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তুহিন শেখ, হাবিবুর রহমান শেখ, গোলাম মোস্তফা, শিমুল শেখ, মো. হাসিবুল ও আলী মল্লিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির পাল্টা অভিযোগ: জামায়াতের টাকা ও লিফলেট বিতরণ
অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে, জামায়াতের লোকজন টাকা ও লিফলেট নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেছিল। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে তাদের দুই কর্মী আহত হন। আহত বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ভাস্কর চক্রবর্তী ও সেলিম শেখ রয়েছেন। বাগেরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ধানের শীষের পক্ষে স্থানীয় লিটু মেম্বারসহ বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী টাকা বিতরণে বের হলে জামায়াত কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য
বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ গোলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতের ৮–১০ জন কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ও লিফলেট বিতরণ করছিলেন। বিএনপি কর্মীরা বাধা দিলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। এতে তাদের দুই কর্মীর মাথায় আঘাত লাগে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা স্থানীয় নির্বাচনী উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে, পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
