পটুয়াখালীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিএনপি নেতা আটক, ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় এক অভিযানে কোস্টগার্ডের সদস্যরা বিএনপি নেতা রেজাউল করিম ওরফে কাজল মৃধাকে আটক করেছেন। তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনের আবাসিক এলাকা থেকে তাকে ব্যাগভর্তি টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
আটকের ঘটনা ও তদন্ত প্রক্রিয়া
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের টহল দল অভিযান চালিয়ে কাজল মৃধাকে টাকার ব্যাগসহ আটক করে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল হাসানের উপস্থিতিতে তার সঙ্গে থাকা বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে নগদ ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মকর্তা মো. রাব্বি ইসলাম রনি, এনএসআই প্রতিনিধি, কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম ও ডিবি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, "গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দ্রুত অভিযান চালিয়ে সফলতা পেয়েছে।"
আটক ব্যক্তির বক্তব্য ও দলীয় প্রতিক্রিয়া
আটকের পর রেজাউল করিম কাজল মৃধা দাবি করেছেন, "পায়রা বন্দরে অধিগ্রহণ করা জমির টাকা আমার ভগ্নিপতি আমার কাছে দিয়ে তারা গ্রামের বাড়িতে ভোট দিতে গেছেন। আমি টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে।" তবে, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নাননু মুন্সী এই ঘটনাকে দলীয় সম্পর্ক থেকে মুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "কাজল মৃধা শহরের একজন বালু ব্যবসায়ী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। টাকাসহ তার আটকের ঘটনার সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিএনপির দলীয় সম্পর্ক নেই।"
আইনি পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই অভিযানটি স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সফল অভিযানের প্রশংসা করলেও, কিছু মানুষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে, এই মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
