পদত্যাগ না করায় মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র সমালোচনা
পদত্যাগ না করায় মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির সমালোচনা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বীকৃতি নিয়ে জোর সমালোচনা শুরু করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার বিজেপি নেতারা মমতার এই অবস্থানকে ‘হাস্যকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ

রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল কয়েক দিন আলোচনায় থাকার জন্য এই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি নিজেকে কেবল হাস্যকরই করে তুলছেন। দেবজিৎ আরও জানান, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে কোনও ক্ষোভ থাকলে মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এমনিতেই তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই ঘটনাকে ৬ জানুয়ারি ২০২১-এ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিল হামলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহিংসতা উসকে দিয়ে সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে ‘শর্ট-সার্কিট’ করার চেষ্টা করছেন। পুনাওয়ালা বলেন, মমতার পরামর্শ অসাংবিধানিক, সংবিধান বিরোধী এবং সাংবিধানিক অবমাননার শামিল। এটি নির্বাচনী পরাজয়ের পর তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একটি ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন এবং জনগণের রায় মেনে না নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করছেন। তার মতে, পদত্যাগ না করলেও ৮ মে বিধানসভা ভেঙে যাবে এবং তিনি সদস্যপদ হারাবেন। এতে বোঝা যায়, তিনি সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

নির্বাচনের ফলাফল

উল্লেখ্য ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মমতার বক্তব্য

এর আগে, কলকাতায় সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, প্রায় ১০০ আসনের রায় ‘লুট’ করা হয়েছে এবং তার দলকে হতাশ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে গণনা ধীর করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না, কারণ আমরা জনগণের রায়ে নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত হয়েছি। আমি লোকভবনে যাব না।