বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিরাজগঞ্জে নিহত জেলা যুবদলের সহসভাপতি সোহানুর রহমান রঞ্জু ও বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২৬২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আদালতের নির্দেশ
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর নাসির উদ্দীন বলেন, ‘যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু হত্যা মামলায় মোট আসামি ১৯৫ জন। এর মধ্যে ৭০ জন জামিনে আছেন। শেখ হাসিনাসহ ১২৫ আসামি পলাতক রয়েছেন। বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় মোট আসামি ১৭৮ জন। এর মধ্যে জামিনে আছেন ৪১ জন। শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩৭ আসামি পলাতক রয়েছেন। দুটি মামলায় মোট ২৬২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।’
পূর্বের ঘটনা
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সোহানুর রহমান রঞ্জু ও আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরীসহ সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৩৭৩ নেতাকর্মীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
অন্যান্য আসামি
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম তালুকদার লাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক প্রমুখ।
মামলার এজাহার
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহসভাপতি সোহানুর রহমান রঞ্জু, বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ ও সুমন শেখকে হত্যা করেন আসামিরা। এ ঘটনায় সোহানুর রহমানের স্ত্রী মৌসুমি খাতুন, আব্দুল লতিফের বোন সালেহা বেগম ও একই এলাকার বিএনপি কর্মী সুমন শেখের বাবা আলী শেখ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেন।



