পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির গেরুয়া ঝড়, মমতার দেড় দশকের শাসনের অবসান
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির গেরুয়া ঝড়, মমতার শাসনের অবসান

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির নেতা–কর্মী–সমর্থকেরা বিজয় উদ্‌যাপন করছেন। কলকাতা, ৪ মে, ২০২৬ছবি: রয়টার্স। আর ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বিধানসভার নির্বাচনে গেরুয়া–ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের সাজানো বাগান।

ভোট গণনা ও ফলাফল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা চলছে আজ সোমবার। সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফল জানা না গেলেও এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, তৃণমূলের ‘দিদি’র শাসনের অবসান ঘটছে এই রাজ্যে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির দল গড়তে যাচ্ছে সরকার। সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত দেখা গেছে, বিজেপি ৪০টি আসনে জয়ের পাশাপাশি ১৬৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ১৫টি আসনে জয়ী হয়েছে, এগিয়ে আছে ৬৭টিতে। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের চেয়ে বেশিই পাচ্ছে বিজেপি।

বিজেপির লক্ষ্য ও অর্জন

এক দশক ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি ২০২১ সালের নির্বাচনেই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার আশা করেছিল। সেবার পদ্ম না ফুটলেও, বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৩ থেকে ৭৭–এ গিয়েছিল। এবার প্রত্যাশা ১৮৫টির বেশি আসনে জয়। সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাচ্ছে দলটি। এই ফলাফলে বিজেপি নেতৃত্বও দারুণভাবে বিস্মিত। অভাবনীয় এই জয়ের পেছনে তাঁরা পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জয়ের পাঁচ কারণ

১. নারী ভোট

কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের নারী সংরক্ষণ বিলের উদ্যোগ নারী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিরোধী দলগুলো ‘নারীবিরোধী’—বিজেপির এমন প্রচার সাধারণ মানুষের মনে সাড়া ফেলেছে। দলের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপির পক্ষে নারী ভোট অন্তত ৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২. সরকারি কর্মীদের মন জয়

বিজেপি সরকারি কর্মচারীদের ‘অধিকার হরণের’ অভিযোগ ঘিরে থাকা ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েছে। ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর এবং শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি সরকারি কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। এটি প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ ভোটারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখ্য, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিজীবী ভোটারের সংখ্যা বেশি।

৩. কেন্দ্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন

‘মোদি বনাম মমতা’ প্রচারই এবারের নির্বাচনে বাজিমাত করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়া এবং পরিকাঠামোর অভাবকে হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ডজনের বেশি জনসভার প্রতিশ্রুতি মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের (২০-২৯ বছর বয়সী ১.৩১ কোটি ভোটার) ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।

৪. নিরাপত্তা, বাহিনী মোতায়েন ও সরকারবিরোধী ক্ষোভ

রাজনৈতিক হিংসাপ্রবণ এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছে। তা ছাড়া আর জি কর কাণ্ডসহ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচার শাসক দলের বিরুদ্ধে বড় প্রভাব ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নিরলস প্রচারও ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

৫. ভোটার তালিকা সংশোধন ও বহিরাগত ইস্যু

ভোটার তালিকা থেকে ‘বহিরাগত’ বা ভুয়া ভোটারদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি সফল হয়েছিল। ‘যৌক্তিক অসংগতি’র ভিত্তিতে ২৭ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া পড়ে ভোটার তালিকা থেকে। ভোটার তালিকা ‘স্বচ্ছ’ করতে বিজেপির এই প্রচার ভোটেও প্রভাব ফেলেছে।