মুক্তিযুদ্ধ কোনো বিতর্কের বিষয় নয়—এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক সত্য। এখানে ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘অথবা’-র কোনো জায়গা নেই। একইসঙ্গে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ইতিহাসকে ব্যবহার করে সময়ে সময়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারুহ মির্জা।
ফেসবুক পোস্টে যা বলেছেন
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। পোস্টে ড. শামারুহ মির্জা লিখেছেন, জাতীয় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ঐক্যের নামে স্মৃতিভ্রংশ কোনো জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। ঐক্য আসে সত্য স্বীকার করে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছে, অতীত মুছে ফেলে নয়।
ইতিহাসের সঙ্গে আপস নয়
তিনি লেখেন, জাতীয় হিলিংয়ের নামে ইতিহাসকে নরম করে ফেলা কোনো সমাধান নয়, বরং সত্যের সঙ্গে আপস। হিলিং মানে ভোলা নয়; হিলিং মানে স্বীকার করা, ন্যায়বিচারের জায়গা নিশ্চিত করা এবং সত্যকে বিকৃত না করা। এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, এটি ইতিহাসের ভাষা।
তিনি আরও লেখেন, পৃথিবীর প্রতিটি গণতান্ত্রিক সমাজেই মতাদর্শগত বিভাজন থাকে—লেফট, রাইট, ফার লেফট, ফার রাইট। এই বিভাজনই রাজনীতির স্বাভাবিক গতি। বিতর্ক হবে, মতবিরোধ হবে, এটাই সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ।
গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্ব
সর্বশেষে তিনি লিখেছেন, সেই বিতর্ক হবে যুক্তি, তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে—সংসদে, নীতিনির্ধারণের টেবিলে, জনপরিসরে। ঐক্যের অজুহাতে মতপ্রকাশ বা ইতিহাসের আলোচনা বন্ধ করার চেষ্টা আসলে গণতান্ত্রিক চর্চাকে দুর্বল করে।



