ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (৩০) নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আবদুল আওয়ালকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার দুপুরে তাঁকে কসবা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বেলা পৌনে দুইটার দিকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কে এই আবদুল আওয়াল?
গ্রেপ্তার আবদুল আওয়াল কসবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মেহারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা। নিহত দ্বীন ইসলাম একই গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামের একটি পেজ পরিচালনা করতেন। মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করে তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।
গ্রেপ্তার অভিযান
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ ও র্যাব-১–এর যৌথ আভিযানিক দল গতকাল শনিবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ঢাকার শেরেবাংলা নগর বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানে দ্বীন ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আবদুল আওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনে কসবা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হত্যার ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে শিমরাইল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় নদের পাড়ে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ বুড়ি নদের পাড়ে গিয়ে জানতে পারে, ঘটনাস্থলটি কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার আওতায় পড়েছে। পরে তারা বিষয়টি বাঙ্গরা থানা-পুলিশকে জানায়।
খবর পেয়ে বাঙ্গরা থানার সিদ্ধিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে কসবা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দ্বীন ইসলামকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত দ্বীন ইসলামের বাবা বাদী হয়ে আবদুল আওয়ালসহ ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।



