চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
বরগুনার আমতলী উপজেলায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এক ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. শহীদুল ইসলাম খান বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত মো. ইমরান খান আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে আমতলী উপজেলার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম খানের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ছাত্রদল নেতা ইমরান খান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তায় একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন শহীদুল ইসলাম। এ সময় ইমরানের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে পুনরায় তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। তিনি আবারও অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে ইমরান আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে এবং আমার স্ত্রী-পুত্রকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পুনরায় সে চাঁদা দাবি করলে অস্বীকৃতি জানাই। পরে তারা আমাকে পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় ইমরান ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের শাস্তি দাবি করছি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান বলেন, ‘শহীদুল ইসলাম আওয়ামী লীগের লোক হয়ে বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করছিলেন। এ সময় সাকিব নামের এক ছাত্রদলকর্মী প্রতিবাদ করেন। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে শহীদুল ইসলামকে মারধর করেন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে শান্ত করেছি। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
বরগুনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সানাউল্লাহ সানি বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রেদওয়ান ইসলাম শুভ জানান, ‘আহত শহীদুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) মো. তারিকুল ইসলাম মাছুম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



