ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই নিজেদের বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
ছাত্রদলের প্রতি সমর্থন ও অপপ্রচারের নিন্দা
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই আমাদের! ৫ই আগস্টের পর থেকে ছাত্রদলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াত-শিবির ও তাদের বি টিম, সি টিমগুলো গোটা বিএনপি ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ঘৃণা চর্চার সকল স্তর অতিক্রম করেছে।’
এরপর শাহবাগের আজকের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের ঘটনার বীজ তখন বপন করা হয়েছিল যখন আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয়কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসগুলোতে শিবির চরম নিকৃষ্ট স্লোগানগুলো তুলেছিল। আজকের ঘটনার তুষের আগুন জ্বালানো হয়েছিল যখন আমাদের মেয়েদেরকে নিয়ে অসংখ্য ভুয়া অশ্লীল ছবি, নিউজ, মন্তব্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।’
গুজব ও নারী বিদ্বেষী প্রচারণার প্রতিবাদ
তিনি আরও বলেন, ‘নেত্র নিউজের প্রতিবেদন দেখুন, যেসব পেইজ থেকে জামাত-এনসিপির সবচেয়ে বেশী প্রমোশন করা হয়েছে, সেই পেইজগুলো থেকেই আবার অসম্ভব বাজে এংগেলে ভিডিয়ো করে চরম নারী বিদ্বেষী এলগরিদমে ফেসবুক সয়লাব করেছে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের নামসর্বস্ব ভিউ ব্যবসায়ী মোজো সাংবাদিকেরা।’
নিজেকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়েও তো কম মিথ্যা ছড়ানো হয়নি। মেট্রো স্টেশনের ভুয়া ভিডিয়ো দেখে আমার নিজের মা পর্যন্ত আমাকে নিয়ে আতংকিত হয়ে গিয়েছিল। এই গুজববাজ, অপপ্রচারকারী সমাজের নিকৃষ্ট জীবদের শেষ কোথায়? তাদের আবার রাজনীতি? আজ এই সবকিছুর একপ্রকার ব্রাস্ট আউট হয়েছে বলা চলে।’
ঐক্যের আহ্বান ও ভবিষ্যৎ প্রত্যয়
শেষে তিনি লিখেন, ‘রক্তাক্ত জুলাই পার করে আমরা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ঐক্যের রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম। সংসদে প্রধানমন্ত্রী থেকে রাজপথে আমাদের মত কর্মীরা বারবার ঐক্যের কথা বলেছে। কিন্তু এই সবকিছু পেরিয়ে কারা আজকে রাজনীতির মাঠকে নোংরা করে তুলছে? আপনি বিবেকবান হলে এর উত্তর আপনার কাছে কঠিন হবার কথা নয়! প্রিয় ছাত্রদল! বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের থেকেও আরো বেশী সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হোন। আমরা কখনোই কারো উপর অন্যায় করিনি। রাষ্ট্র ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে আমাদের বেড়ে উঠা। আমরা আমাদের পথচলা অবিচল রাখবো। সত্যের বিজয় সুনিশ্চিত। আমরাই বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ!’



