বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্যসচিব মাহদী হাসান, যিনি আগে 'বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া' এবং 'এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেওয়া' নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, এবার হামলা থেকে বাঁচতে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা ও ধাওয়া করেছেন। তাই তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নেন।
ছাত্রদলের অস্বীকৃতি
অপরদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনটির জেলা সভাপতি রাজীব আহমেদ দাবি করেন, মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীর ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি 'নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য' মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
পুলিশের বক্তব্য
হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, মাহাদী হাসানের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের ভিডিও ক্যামেরা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তারাও এ ধরনের দৃশ্য দেখেছেন বলে কেউ জানাননি। তবে ওই ছাত্রনেতা লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ আরও তদন্ত করে দেখবে বলে জানান ওসি।
ঘটনার বিবরণ
মাহাদী হাসান বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে জানান, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ এনে তার প্রশংসা করেন। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী সহজভাবে নেননি বলে তার দাবি।
বুধবার দুপুরে মাহাদী হাসান ফেসবুক লাইভে এসে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে তিনি বিআরটিএর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি একটি ইজিবাইকে করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ধাওয়া করেন। ভিডিওতে মাহাদীর সঙ্গে ইজিবাইকে আরেকজনকে দেখা যায়। তারা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মাহাদী যখন থানায় যান, তখন ওসি থানায় উপস্থিত ছিলেন না। মাহাদী ডিউটি অফিসারকে জানান তাকে ধাওয়া করার বিষয়টি। তখন ডিউটি অফিসার একজন এসআইকে সঙ্গে নিয়ে থানার ফটক পর্যন্ত এসে কাউকে দেখতে পাননি। মাহাদী বেলা দুইটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন। খবর পেয়ে বেলা আড়াই দিকে ওসি থানায় এলে তাকে এ বিষয়ে বলেন মাহাদী।



