নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষমেলায় ফটোসেশনকে কেন্দ্র করে জেলার শীর্ষ নেতাদের সামনে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া নামে বিএনপির এক নেতাকে মাথায় গেঞ্জি প্যাঁচিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে যুবদলের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফতুল্লার চাঁনমারী এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত বিএনপি নেতার বক্তব্য
আহত অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে ফটোসেশন করছিলেন। এ সময় আমিও তাদের পাশে দাঁড়াই। তখন হঠাৎ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি আমাকে প্রশ্ন করে বলেন- আপনি গত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন। এক কথায় দুই কথায় রনির সঙ্গে আমার তর্ক হয়। পরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু আমাদের শান্ত করে মিলিয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, এরপর আমি বের হয়ে জেলা পরিষদের সামনে নামাজের জায়গা খুঁজতে থাকি তখন হঠাৎ করেই রনির লোকজন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারী যুবদলের কর্মীরা আমার পরনের গেঞ্জি টেনে আমার মাথায় প্যাঁচিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করায় প্রাণে বেঁচে আছি। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।
হামলার প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জানতে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি তা রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, বিষয়টি প্রথমে আমরা মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। পরে বাইরে গিয়ে তারা আবার অকিল উদ্দিনের ওপর হামলা করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি জেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ শীর্ষ নেতারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি জুলাই আন্দোলনের পর ফতুল্লার বিসিক নগরীর গার্মেন্টসের ঝুট সেক্টর দখল করতে শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের সহযোগীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে সমালোচনায় আসেন। এরপর চাঁদনী হাউজিংয়ে একটি গার্মেন্টসের ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। এতে শিশুসহ এক বিএনপি নেতার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় রনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়।
এছাড়াও জেলার শীর্ষ নেতাদের কাছে রনির বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। এতো অভিযোগের পরও দলের নীতি নির্ধারকরা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মশিউর রহমান রনি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
পুলিশের বক্তব্য
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম জানান, হামলার ঘটনায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



