বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী হোসেন স্বপন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিসহ দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাল মিয়া কবিরাজ ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য জেসমিন আরা বেগম গত ১৩ মে দুপুরে অটোগাড়ি করে উপজেলা সদরে আসছিলেন। পথে কাজীরহাট নামক স্থানে তাদের ভ্যানের গতিরোধ করে আলী হোসেন স্বপন ভুঁইয়ার নিজস্ব কার্যালয়ে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তাদের কাছে টাকা না থাকায় স্বামী লাল মিয়া কবিরাজকে আটক রেখে স্ত্রী জেসমিন আরা বেগমকে টাকা আনতে বাড়িতে পাঠানো হয়। তিনি বাড়ি গিয়ে কৌশলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামচুল হক খোকনকে ঘটনা জানান।
এছাড়া ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ঘটনা জানালেও আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছানোর আগেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় জেসমিন আরা বেগমের কাছ থেকে আলী হোসেন স্বপন ভুঁইয়ার অনুসারী হাউল নামে এক ব্যক্তি ৫০০ টাকা নিয়ে ছয়গ্রাম বাজার থেকে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্প ক্রয় করে আনেন। তাদের চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় ওই সাদা স্ট্যাম্পে লাল মিয়া কবিরাজ ও জেসমিন আরা বেগমের স্বাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ প্রকাশ ও জিডি
এ ঘটনায় দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ১৬ মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তারপরও তাকে উপজেলা বিএনপি থেকে এখনো বহিষ্কার করা হয়নি। এরপর ওই বিএনপি নেতা আলী হোসেন স্বপন ভুঁইয়া নিজের দোষ ঢাকতে দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম ও মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি নাজমুল রিপনের বিরুদ্ধে ২২ মে আগৈলঝাড়া থানায় জিডি করেন।
বক্তব্য
এ ব্যাপারে আলী হোসেন স্বপন ভুঁইয়া বলেন, পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লাল মিয়া কবিরাজ মামলা দিয়ে তার অনেক ক্ষতি করেছে। তাই তার লোকজন তার সাথে কথা বলেছে। কেউ চাঁদা চায়নি।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, যে কেউ থানায় এসে জিডি করতে পারে। সাংবাদিকরা তো আইনের ঊর্ধ্বে নয়।



