জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে নাচগান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে আনন্দ উৎসবে মেতে থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমকে (মেম্বার) স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার ওই ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নেতাকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) প্রদান করে ৭ দিনের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে অভিযুক্ত থাকার অপরাধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এ শোকজে সতর্ক করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা রোববার রাতে যৌথ স্বাক্ষরে এ কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন। কারণ দর্শানোর নোটিশপ্রাপ্ত বিএনপি ও যুবদলের নেতারা হলেন- আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আয়নাল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, সোনামুখী ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বক্কর ও সোনামুখী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. মিনহাজ।
অভিযোগের বিবরণ
এ কারণ দর্শন ও নোটিশে বলা হয়- গত ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী তথা দিনটি একটি জাতীয় শোকের দিন থাকা সত্ত্বেও আপনি ওই দিনে জাতীয় শোক পালন না করে সোনামুখী ইউনিয়নের জাফরপুর স্কুল মাঠে নাচ-গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে আনন্দ উৎসবে মেতে ছিলেন যা সংগঠনের নীতিবহির্ভূত একটি গর্হিত কাজ। এ ব্যাপারে আপনার অনুষ্ঠানে অতিথিদের তালিকায় যাদের নাম দিয়েছিলেন তাদের কারো কোনো সম্মতিও নেননি, এটিও একটি বড় ধরনের সংগঠনবিরোধী কাজ। এ ধরনের সংগঠনের স্বার্থের পরিপন্থি কাজের জন্য আপনাদের বিরুদ্ধে এই কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হলো। নোটিশটি প্রাপ্তির তারিখ হতে ৭ দিনের মধ্যে যুক্তি সঙ্গত উত্তর থাকলে তা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে অভিযুক্ত থাকার অপরাধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পূর্ববর্তী বহিষ্কার
উল্লেখ্য, একই অভিযোগে জেলা বিএনপি গত রোববার আক্কেলপুরের সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমকে (মেম্বার) স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শোকাবহ দিনে এ ধরনের অসাংগঠনিক ও অশ্লীল কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে ৩০ মের ওই নিন্দনীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের দুজনকে সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির পদসহ দল থেকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।



