জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইয়ানত গ্রহণকে চাঁদাবাজি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার এই বক্তব্যকে অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের বিবৃতি
রবিবার (৩১ মে) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহ্যবাহী ও নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইয়ানত কী?
বিবৃতিতে তিনি ইয়ানতকে পবিত্র আমানত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সকল স্তরের জনশক্তি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে প্রতি মাসে সংগঠনের ফান্ডে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ‘ইয়ানত’ দান করে থাকেন। এটি কোনও জোর-জুলুমের বিষয় নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং একটি কল্যাণকামী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কর্মীদের পবিত্র আত্মত্যাগ। রিজভী সাহেব এই পবিত্র সাংগঠনিক নিয়মতান্ত্রিকতাকে ‘হাদিয়াবাজি’ বা ‘ইয়ানতবাজি’ বলে মূলত এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে চরমভাবে অপমান করেছেন।
জামায়াতের অবস্থান
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জোরপূর্বক চাঁদাবাজির সংস্কৃতি জামায়াতের নয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বা জোর করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতো জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করা কিংবা পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার কোনো ইতিহাস জামায়াতের নেই। এ ধরনের অপকর্ম ও সন্ত্রাসী সংস্কৃতির ধারক-বাহক কারা, তা এদেশের জনগণ ভালো করেই জানে।
সুশৃঙ্খল দল জামায়াত
জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। কোনও স্তরের কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ এলে দল তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে এবং সঙ্গে সঙ্গে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটিকে ঢাল বানিয়ে ঢালাওভাবে পুরো সংগঠনকে অভিযুক্ত করা রিজভী সাহেবের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
জনসমর্থন ও ঈর্ষা
তিনি আরও বলেন, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু এবং তারা জামায়াতে ইসলামীর সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে ভালোবাসে। জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও জনবিচ্ছিন্নতা আড়াল করতেই বিএনপি নেতা এই মনগড়া ও কাল্পনিক বক্তব্য দিয়েছেন।
আহ্বান
তিনি বলেন, বিএনপির এই ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রতি আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে এ ধরনের অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।



