গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। এ নিয়ে অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে তার সংঘাতের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার (২৫ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে একটি অডিও প্রকাশ করে এসব কথা বলেন রাশেদ।
অডিওর বক্তব্য
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নাহিদ আসিফ ডিবিতে মাইর খেতো, আর হাসনাত সারজিস ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে জুস খেতো।’ তার দাবি, প্রকাশিত অডিওতেই কেন তাদের জুস খাওয়ানো হতো এর কারণ উঠে এসেছে। অডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কখনোই কনফ্রন্টেশনে যেতে চাই নাই। আমার ফোকাস ছিল কোটা সংস্কার, আমি কোটা সংস্কারেই থাকতে চাইসি। এখন সমন্বয়কদের মধ্যে যদি কেউ আগ বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তার দায়ভার তো আমি নেব না। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটা নিয়ে হাতাহাতি হওয়া বাকি ছিল শুধু।’
বিএনপি এমপিদের প্রতি আহ্বান
রাশেদ খাঁন বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি বিএনপির এমপিদেরকে বলবো, সংসদে সে যখন বেশি কথা বলবে, তখন এই অডিওটা বেশি বেশি বাজাবেন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম মূলত আওয়ামী লীগের পক্ষের লোক ছিলেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন ছিল তাদের আগের অবস্থান আড়াল করার কৌশল।
উপদেষ্টার বক্তব্য
পোস্টে তিনি একজন উপদেষ্টার বরাত দিয়ে লেখেন, ‘একজন উপদেষ্টা শপথ নেওয়ার আগে ৭ আগস্ট রাত ২.০০ টার দিকে বলেছিলো হাসনাত-সারজিস জাতির সাথে বেইমানি করেছে।’ গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা আসিফ মাহমুদের বইয়ের সমালোচনাও করেন তিনি। তার অভিযোগ, বইটিতে শুধু ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু হাসনাত-সারজিসের ‘বেইমানির ইতিহাস’ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বইতে গণঅভ্যুত্থানে শুধুমাত্র ইতিবাচক দিকটা উঠে এসেছে, কিন্তু হাসনাত-সারজিসের বেইমানির ইতিহাসটা আসে নাই। আশা করি, পরবর্তী এডিশনে আমরা সেটা পাবো..... আর না পেলে ৭১ এর মত ২৪ এর বানোয়াট ইতিহাসই আমাদের সম্বল হবে।’
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



