রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে আসন দখলের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রাধ্যক্ষদের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ছাত্রদল।
মানববন্ধনে তিন দফা দাবি
আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন আবাসিক হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম চলছে।
মানববন্ধনে ছাত্রশিবির তিন দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—অবৈধভাবে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের আসন বাতিল করে শূন্য আসন দখলমুক্ত করা, খালি আসনের সংখ্যা প্রকাশ করে ওয়েটিং লিস্ট অনুযায়ী আসন বরাদ্দ দেওয়া এবং পুরো আসন বণ্টনপ্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এর আগে গতকাল রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবির দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনটি হলে অবৈধভাবে আসন দখলের নজির পাওয়া গেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ও সমর্থক নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল অভিযোগ করেন, সরকার-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদল আবার হল দখলের চেষ্টা করছে। গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রাধ্যক্ষরা সহযোগিতা করছেন।
মুজাহিদ ফয়সাল আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের অনেক নেতার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হলেও তাঁদের আসন বাতিল করা হচ্ছে না, অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আসন বাতিল করা হয়। হল প্রাধ্যক্ষদের জন্য সংরক্ষিত দারিদ্র্য কোটার আসনও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজিব বলেন, ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলও যদি হলের আসন দখলের চেষ্টা করে, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। একটি বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রদল।



