নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় মাসদাইর ঈদগাহে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু একদলীয় শাসন এই দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
একদলীয় শাসন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান
শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত ভিসিদের বসিয়ে দেওয়া, জেলা পরিষদের মতো জায়গায় নিজের ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে দেওয়া—এভাবে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হয়েছে।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করার চেষ্টা করেছিলেন। অর্ধবছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেন নাই। সুতরাং একদলীয় শাসন এই দেশের মানুষ মেনে নেবে না। বিরোধী দলকে সবচেয়ে বেশি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত আওয়ামী লীগ। এখন বিএনপিও ওই পুরোনো আওয়ামী লীগ যা বলত, তাদের কথাগুলো তারাও জপা শুরু করেছে; যে কথাগুলো বলতে বলতে আওয়ামী লীগ গিয়ে পড়েছে দিল্লিতে। আপনারাও জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন? জনগণ এসব কথা আর খায় না। আমরা আশা করতে চাই, সরকার নিজেদের ভুল নীতি পরিহার করে জনকল্যাণমূলক, জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসবে।’
বাজেট ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে
বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গত সাড়ে ১৭ বছরে বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটবেন না।’ বিএনপি সরকার গঠনের আগে ও পরে দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা চাঁদাবাজকেও আইনের আওতায় আনতে পারেন নাই। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই; বরং মিটার আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। কিছু দল ও দলকানা মানুষ ও গোষ্ঠীর পরিবর্তন হবে। জনগণ আর এটা দেখতে চায় না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সর্ব মন্ত্রী। সব মন্ত্রণালয়ে তিনি আজান দেন, একামতও দেন। মাঝে মাঝে তিনি সংসদে ফতোয়াও দেন। তিনি বলেছিলেন, “নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায়, এ জন্য বলেছিলাম।” লজ্জা। একটি সংগঠনের শীর্ষ জায়গায় থেকে যদি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা থাকবে কেন? মানুষ রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা রাখবে? আমরা ওই রাজনীতি করি নাই, করবও না।’
নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে
নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ত্বকী হত্যার বিচার তার পরিবার এখনো পায়নি। সাত খুনের ঘটনা ও এই নারায়ণগঞ্জে লাশের সারি উপহার দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো নেতা হুংকার দিয়ে বলেছেন, “খেলা হবে।” এখন তারা কোন মাঠে খেলতেছেন, এখন কি তারা নারায়ণগঞ্জে আসেন? অহংকার ভালো নয়। অহংকারীরা তাদের কিছুটা পাওনা পেয়ে গেছে, বাকিটাও তারা পাবে।’ তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। চাঁদাবাজরা তাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। দখলদারি, হাটবাজার-মহালগুলো হাতবদল হয়েছে। এমনকি ব্যাংক ডাকাতেরা ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, তাদের ব্যবসাগুলো কেউ না কেউ দেখাশোনা করছে।’
সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা
জামায়াতের আমির অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
সম্মেলনে বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা জামায়াতের আমির মমিনুল হক সরকার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।



