এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার: জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় নেতা নাহিদ ইসলাম মহান স্বাধীনতা দিবসে শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জবাবদিহিমূলক, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
স্বাধীনতার চেতনা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
নাহিদ ইসলাম তার বিবৃতিতে বলেন, স্বাধীনতার চেতনায় দুর্নীতি, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে। তিনি একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে।
তিনি ২৬ মার্চকে আমাদের ইতিহাসের এক গৌরবময় দিন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সব বীর শহিদ ও নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
স্বাধীনতার অঙ্গীকার ও বাস্তবতা
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা কেবল একটি ভূখণ্ডের অর্জন নয়; এটি ছিল ন্যায্যতা, সাম্য, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই অঙ্গীকার পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে বারবার স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রকে দুর্বল করে বিদেশি শক্তির কাছে নতজানু করার অপচেষ্টাও হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনগণের সংগ্রাম ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, তবুও দেশের মানুষ কখনও পরাজয় মেনে নেয়নি এবং অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে বারবার জেগে উঠেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হাজারো শহিদের আত্মদানের বিনিময়ে জাতি স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতি, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ
নাহিদ ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সত্য, ন্যায্যতা, সাহস ও দেশপ্রেমের আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের হাতেই রচিত হবে আগামীর বাংলাদেশ।
এই বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছেন, যা নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।



