সঞ্জয় রাউতের বইয়ে ধনখড়ের পদত্যাগের রহস্য উদ্ঘাটন
ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগের পেছনে লুকানো কারণটি কি তাঁর স্বাধীনচেতা মনোভাব, যা কেন্দ্রীয় সরকারের পছন্দ হচ্ছিল না? দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে চলা এই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত। তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই ‘আনলাইকলি প্যারাডাইস’-এ দাবি করা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে হঠাৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সক্রিয় হয়ে ওঠে। উপরাষ্ট্রপতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
কারাবাসের অভিজ্ঞতা থেকে বই রচনা
সঞ্জয় রাউতকে বেআইনিভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে ইডি গ্রেপ্তার করেছিল ২০২২ সালে। মুম্বাইয়ের আর্থার জেলে ১০০ দিন বন্দী থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। কারাবাসের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে মারাঠি ভাষায় তিনি ‘নরকাটলা স্বর্গ’ বইটি লিখেছেন, যার ইংরেজি অনুবাদ ‘আনলাইকলি প্যারাডাইস’। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ডেরেক ওব্রায়ান, বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বাল প্রমুখ।
ধনখড়ের পদত্যাগের বিস্তারিত বিবরণ
বইয়ে সঞ্জয় রাউত লিখেছেন, জগদীপ ধনখড় দম্পতি রাজস্থানের জয়পুরে নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে কিছু টাকা বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। ইডি সেই তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের বিরুদ্ধে ধনখড়ের সম্ভাব্য পদক্ষেপের আশঙ্কা করে। ইডি সেই ফাইল তাঁর কাছে পেশ করে পদত্যাগের ইঙ্গিত দেয়। প্রাথমিকভাবে আপত্তি জানালে ইডির খানাতল্লাশি বেড়ে যায় এবং ধনখড় অসহায় বোধ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ২০২৬ সালে ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন, যা ভারতের ইতিহাসে প্রথম উপরাষ্ট্রপতির মেয়াদপূর্তির আগে পদত্যাগের ঘটনা।
অশোক লাভাসার পদত্যাগের প্রসঙ্গ
শুধু ধনখড়ই নন, বইয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার পদত্যাগের রহস্যও উন্মোচিত হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। কমিশনের দুই সদস্য মোদি-শাহকে ‘ক্লিনচিট’ দিলেও লাভাসা ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। বইয়ে দাবি করা হয়েছে, লাভাসার পরিবারের বিরুদ্ধে আয়কর বিভাগের নোটিশ ও জেরার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যা তাঁকে ২০২০ সালে নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে যোগদানে বাধ্য করে।
অমিত শাহ ও শারদ পাওয়ারের প্রসঙ্গ
সঞ্জয় রাউত তাঁর বইয়ে অমিত শাহর প্রসঙ্গও এনেছেন। দাবি করা হয়েছে, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত অমিত শাহ শরণাপন্ন হয়েছিলেন শারদ পাওয়ার ও শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের কাছে। বাল ঠাকরের নির্দেশে শিবসেনার নেতা মনোহর যোশি বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাহর জামিন নিশ্চিত করেছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়া, গুজরাট দাঙ্গার সময় নরেন্দ্র মোদির গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় শারদ পাওয়ারের বিরোধিতার কথাও বইয়ে উল্লেখ করেছেন রাউত।
সঞ্জয় রাউতের এই বই ভারতীয় রাজনীতির নানা অধ্যায়ের উপর আলোকপাত করেছে, যা বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



