জামায়াত নেতার তীব্র অভিযোগ: জুলাই সনদ থেকে বিএনপি ও সরকারের ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া
জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার কক্সবাজার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, 'জুলাই বিপ্লব'-এর আকাঙ্ক্ষা এবং 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান সরকার ও বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। তার মতে, এই অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক 'দ্বিচারিতা'র শামিল এবং জনগণের অভিপ্রায়ই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ আইন।
জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ করার অভিযোগ
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা আরও দাবি করেন, জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখন পরোক্ষভাবে আদালতে রিট করে বিষয়টিকে 'সাব-জুডিস' করা হয়েছে। তার অভিযোগ, এতে সরকারের নীরব সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, "একদিকে জনগণের কথা বলা, অন্যদিকে নেপথ্যে ভিন্ন কৌশল নেওয়া—একে দ্বিচারিতাই বলা হয়।"
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বহু প্রাণহানি ও ত্যাগের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সরকার গঠনের পর তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
গণভোটের প্রসঙ্গ ও সংকট সমাধানের প্রস্তাব
গণভোট প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে বেশি জনসমর্থন ছিল এবং "আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়"—এই নীতির ভিত্তিতে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সংকট সমাধানে প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন:
- সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করা প্রয়োজন
- 'জুলাই জাতীয় সনদ'কে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার
সরকারকে সতর্কবার্তা ও জামায়াতের ভূমিকা
শেষে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সমাধান সংসদে হবে নাকি জনগণকে আবার রাজপথে নামতে হবে—সে সিদ্ধান্ত সরকারেরই নিতে হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে সংসদ ও রাজপথে জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তার অভিযোগগুলো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকার-বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই অবস্থান আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



