জামায়াতে ইসলামীর জন্য এবারের ঈদুল ফিতর বিশেষ অর্থ বহন করছে
দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রথমবারের মতো বিরোধী দলে অবস্থান করছে জামায়াতে ইসলামী, যার ফলে এবারের ঈদ উদযাপন অনেকটাই ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন অর্জন করেছে, যা তাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতার ঈদ কর্মসূচি
জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। নামাজ শেষে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। একই দিনে তিনি দুটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।
প্রথম অনুষ্ঠানে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকাস্থ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দ্বিতীয় অনুষ্ঠানে বেলা ৩টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে। জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াত নেতাদের ঈদ উদযাপনের স্থানসমূহ
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। এই সিদ্ধান্তটি দলটির জন্য একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। নেতাদের অবস্থানসমূহ নিম্নরূপ:
- নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।
- নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার নিজ গ্রামে অবস্থান করবেন।
- নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ঢাকায় থাকবেন।
- মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে ঈদ পালন করবেন।
- সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে উপস্থিত থাকবেন।
- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করবেন।
- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন।
- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায় অবস্থান করবেন।
- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী নিজ গ্রামে ঈদ পালন করবেন।
- অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে থাকবেন।
- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন।
- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে অবস্থান করবেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অবস্থান
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা ও অন্যান্য নেতারাও বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপন করবেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আবদুর রব ঢাকায় থাকবেন।
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ঢাকায় অবস্থান করবেন।
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ঢাকায় ঈদ পালন করবেন।
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন বগুড়ায় থাকবেন।
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরার নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন।
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন ঢাকায় অবস্থান করবেন।
- ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নিজ গ্রামে থাকবেন।
- ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন ঢাকায় ঈদ পালন করবেন।
- ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে অবস্থান করবেন।
- ড. রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুর জেলার নিজ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
এই বিস্তৃত তালিকা থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এবারের ঈদুল ফিতরে তাদের নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি দলটির বিরোধী দল হিসেবে নতুন ভূমিকার একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।



