এনসিপির সংস্কার লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা, সরকারের বিরোধিতার সমালোচনা
এনসিপির সংস্কার লড়াই অব্যাহত, সরকারের বিরোধিতা সমালোচনা

এনসিপির সংস্কার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য দলটির লড়াই কখনোই থামবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারই এনসিপিকে সর্বোচ্চ বিরোধিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

ঢাকায় ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি যে আশা বাংলাদেশের মানুষ দেখিয়েছে, এনসিপির পক্ষ থেকে তার সর্বোচ্চ প্রতিফলন দেখাতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সরকার পুরনো পথে হাঁটতে শুরু করেছে। সংস্কারের বিপক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। এমনটি চলতে থাকলে আমাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করতে হবে।”

বিএনপির সংস্কার বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা

নাহিদ ইসলাম বিএনপির ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন থেকেই বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে। বিএনপি গণভোটের পক্ষে, তবে প্রধান সংস্কারগুলোর পক্ষে নেই। নিজের মন-মর্জি মতো সংস্কার করতে চাচ্ছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্যান্য দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতি ও বক্তব্য

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর নেতারা।

সভাপতির বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “পরিবর্তন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লড়াইয়ের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি ঢাকা মহানগরী উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।” অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সদস্য সচিব সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর, যিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এই আলোচনা সভায় এনসিপির নেতৃত্ব সংস্কার আন্দোলনকে জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।