ইরানে হামলার নিন্দা জানালেন জামায়াত আমির, যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ইরানে সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে, রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ইসরায়েলকে দায়ী করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি।
ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “সম্প্রতি ইরানে সামরিক হামলা এবং পরবর্তীতে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তার নির্দেশ করে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনাগুলো সমগ্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানান। তিনি ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে, সংলাপের পথ রুদ্ধ করছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।”
পাল্টা হামলাকেও অকার্যকর বলা
জামায়াতের আমির উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাকেও অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই কেবল বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আরও গভীর করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার প্রবণতা গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সংলাপ ও কূটনীতির আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ এবং বৃহত্তর বিশ্ববাসী আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ কামনা করে না। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা।” তিনি সতর্ক করে দেন যে, সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বৃহত্তর অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসা উচিত। কারণ, টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ সেটিই।”
এই বিবৃতিতে জামায়াত আমিরের যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করা একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি করতে পারে।
