এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের ঘোষণা: রাজপথ ও সংসদে শক্ত অবস্থান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রধান লক্ষ্য
এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম: রাজপথ ও সংসদে শক্ত অবস্থান

এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের ঘোষণা: রাজপথ ও সংসদে শক্ত অবস্থান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রধান লক্ষ্য

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজপথ ও সংসদ— উভয় ক্ষেত্রেই শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড এবং হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এনসিপির প্রধান লক্ষ্য।” রবিবার (১ মার্চ) বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় যুব শক্তি’ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কারের জন্য সংসদে যথাযথ প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির অভিশংসন জরুরি

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে আরও বলেন, “সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে সংসদ অধিবেশনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিষদ গঠন করে শপথ নিতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে আইনের আওতায় আনতে হবে।” তার মতে, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই ব্যবস্থা ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অগ্রসর হতে পারবে না।

নতুন সরকারের কার্যক্রমে অসন্তোষ ও আশাহত হওয়ার অভিযোগ

অনুষ্ঠানে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নতুন সরকারের প্রাথমিক কার্যক্রমে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের জন্য ছাত্র-জনতা প্রাণ হারিয়েছে, বর্তমান সরকার শপথ নিয়েই সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের আশাহত করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সরকারের সব অপকর্মের সহযোগী ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছিলেন, তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।”

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিবের অভিযোগ: বিএনপির গড়িমসি

একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি গড়িমসি শুরু করেছে।” তার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইফতার মাহফিলে জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানটি দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে বলে মনে করা হচ্ছে।