ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে মালবাহী একটি ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে প্রায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ ট্রেনের চালককে (লোকোমাস্টার) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ শাহজাহান (৫৪) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমাস্টার হিসেবে কর্মরত।
অভিযানের বিবরণ
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মালবাহী একটি কনটেইনার ট্রেনে মাদকদ্রব্য বহন করা হচ্ছে—এমন তথ্য পায় তারা। পরে গতকাল রাত ১১টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে অভিযান চালানো হয়।
মালবাহী ট্রেনটি আখাউড়া স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে স্টেশনমাস্টারের অনুমতি ও উপস্থিতিতে ট্রেনে তল্লাশি চালায় র্যাবের অভিযানিক দল। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ট্রেনের চালক শাহজাহানকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের হেফাজতে মাদকদ্রব্য থাকার কথা স্বীকার করেন।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য
ওই লোকোমাস্টারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ট্রেনটির ইঞ্জিনের পেছনে রাখা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে ১৫ দশমিক ৭ কেজি গাঁজা এবং এক বোতল নিষিদ্ধ ইসকফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ৬০৩ নম্বর কনটেইনার ট্রেনটি আখাউড়ায় পৌঁছানোর পর র্যাব তল্লাশি শুরু করে। প্রথমে চালক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সুযোগ বুঝে ট্রেনের সহকারী চালক পালিয়ে যান।
র্যাব ও পুলিশের বক্তব্য
র্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা ও ইসকফ সিরাপ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। এ ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, র্যাবের করা মামলায় ট্রেনের ওই চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে অন্য এক চালক এনে মালবাহী ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়।



