ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণে অংশ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপস্থিত জনতার মাঝে খাবার বিতরণ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায় সেবা কার্যক্রম
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের পবিত্র নগরী কোমে একটি সড়কের পাশে বড় একটি বাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখান থেকে তিনি জানাজায় অংশ নেওয়া নারী, পুরুষ ও শিশুদের হাতে ছোট ছোট খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন।
বিপুল জনসমাগম ও স্বেচ্ছাসেবী
জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোমে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। আগত মানুষের সেবায় শহরের বিভিন্ন সড়ক, প্রান্তর ও সেবাকেন্দ্রে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও। তারা ফল, কেক, নাশতা এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অংশ নেন।
এই মানবিক উদ্যোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেন। তিনি আগত মানুষের মধ্যে ফল ও কেক বিতরণ করেন এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা
খামেনির শোক অনুষ্ঠানে খাবার বিতরণ করে স্যোশাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এনসিপির এই নেতা। উজ্জ্বল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, 'মানবতার কোনো ধর্ম বা ভৌগোলিক সীমানা নেই। ইরানের পবিত্র শহর কোমে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এমন শোকাবহ ও কঠিন পরিস্থিতিতে নিজ দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নিজ হাতে খাবার বিতরণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়েও মানুষের প্রতি তার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিনয় সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে এমন চমৎকার মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য আপনাকে স্যালুট, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।'
শিখা ইসলাম নামে আরেকজন লিখেছেন, 'এক হাদিকে হারিয়ে আজ সারা বাংলার মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। আশা করি, আমরা নাসীরুদ্দীনের মতো মানুষের যত্ন নেবো। তারাই বাংলার নক্ষত্র।' ফেসবুকে শমী আহমেদ লিখেছেন, 'একজন তরুণ নেতা হিসেবে বিশ্বরাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অংশগ্রহণ পরিপক্বতা ও দূরদর্শিতার প্রমাণ দেয়। উনিই আসলেই বেস্ট।' এসএ সোহেল নামে এক নেটিজেন লিখেছেন, 'সমালোচনা করা সহজ কিন্তু পাটওয়ারী হওয়া অনেক কঠিন।' মুহাম্মদ শাকিল বলেছেন, 'মানবতা আজও বেঁচে আছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দেখে আমাদের কিছু শেখা উচিত।' কামাল আহমেদ লিখেছেন, 'শোকাভিভূত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ নিঃসন্দেহে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।' মাসুদ রানা লেখেন, 'দোয়া করি- আল্লাহ যেন নাসীরুদ্দীন ভাইকে অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখেন।'
অন্যান্য মানবিক কার্যক্রম
খাবার বিতরণ ছাড়াও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বেশ কিছু প্রশংসামূলক কার্যক্রম স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে। সেখানকার কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলা, যুদ্ধাহত যোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আলী লারিজানী সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এনসিপির এই নেতা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক স্ট্যাটাসে জানান, 'ইরানের কোমে যুদ্ধাহত এক যোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাৎ দীর্ঘক্ষণ কথা হলো। দেশ রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন বা গুরুতর ক্ষত নিয়ে ফিরে এসেছেন, ইরান তাদের যেভাবে সম্মান, মর্যাদা ও ভালোবাসায় আগলে রাখে, তা সত্যিই আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।' তিনি আরও বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং চব্বিশের শহীদ ও আহতদের যদি আমরা যথাযথ মর্যাদা, সম্মান ও জাতীয় চেতনার জায়গা থেকে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারি, তাহলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি দেশপ্রেমে জাগ্রত হবে এবং দেশের জন্য দায়িত্ব নিতে অনুপ্রাণিত হবে।' আরেক স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন বলেন, 'ইরান বেঁচে আছে, আমাদেরকে অবশ্যই জেগে উঠতে হবে।'



