মেহেদী হাসানের মৃত্যু: স্কুলে হামলায় সাবেক এমপি আনোয়ার হোসেন খানসহ ১৭৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মেহেদী হাসানের মৃত্যু: স্কুলে হামলায় ১৭৯ জনের মামলা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানসহ ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে মামলাটিতে।

মামলার এজাহারে কী বলা হয়েছে?

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। গত সোমবার রাতে রামগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রথম মামলা ও উত্তেজনা

এর আগে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মেহেদী হাসানকে মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটিতে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৬ জুন বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ লোকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার মামলার বিবরণ

পুলিশ জানায়, ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে করা মামলাটির বাদী রবিউল হাসান নামের এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলার দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি। মামলায় আসামিদের মধ্যে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ জুন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে আসামিরা উপস্থিত হয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হন। বাদী ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের ওপর হামলা হয়। তাঁদের মারধর ও জখম করেন আসামিরা। একই সময়ে আসামিরা ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতেও ভাঙচুর করেন। শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জনরোষকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে একাডেমিতে হামলা-ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন খান

মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন খানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।

কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ

মামলার আসামিদের মধ্যে ১৪ নম্বরে রয়েছে তুহিন মালিকের নাম। তিনি রামগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় করা একটি মামলায় ৩ জুন আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৭ জুন আদালত থেকে জামিন নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছি। অথচ ১৬ জুন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে ভাঙচুরের ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। ঘটনার দিন কারাগারে থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে সহজেই যাচাই করা সম্ভব।’

পুলিশের বক্তব্য

জানতে চাইলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে হামলা, ভাঙচুর, কয়েকজনকে মারধর এবং নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি হয়েছে।

কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে। কোনো ব্যক্তি ঘটনার সময় অন্য কোথাও অবস্থান করেছেন বা কারাগারে ছিলেন—এ ধরনের দাবি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’