কাঁচা রাস্তা বলায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান
কাঁচা রাস্তা বলায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা জেবা আমিন খানের

জাতীয় সংসদে বাংলা ও ইংরেজি মিশিয়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান। তিনি বলেছেন, ‘কাঁচা রাস্তা’ শব্দটি তিনি সচেতনভাবেই ব্যবহার করেছেন, কারণ ‘ডার্ট রোড’ বা ‘আনপেইভড রোড’ বললে সবাই তা বুঝতেন না।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেবা আমিন খান এ কথা বলেন।

জেবা আমিন বলেন, “আমি কী বোঝাব বলেন। আমাদের দেশের রাস্তাগুলোর যে অবস্থা, আমি তো ‘কাঁচা রাস্তা’ সঠিক বাংলা বলেছি, তাই না? তো এখন আমি কী বলবো? ডার্ট রোড? অর আনপেইভড রোড? আপনারা কোনটা বললে বুঝবেন? আনপেইভড রোড আর ডার্ট রোড বললে তো বুঝতেন না। এজন্য আমি ‘কাঁচা রাস্তা’ বলেছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, “আমাদের রংপুর-৬-এর যিনি সংসদ সদস্য, তিনি প্রথমে ‘কাঁচা রাস্তা’র কথা বলেছেন। আমি রংপুর-৬ আসনে যাতে কাজগুলো সুন্দর করে হয়, সেজন্য ‘কাঁচা রাস্তা’ উল্লেখ করেছি।”

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জেবা আমিন খান বাংলা ও ইংরেজি মিশিয়ে বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে ভাঙাচোরা সড়ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অব কাঁচা রাস্তা। দ্য রাস্তাস আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন। দিস ইজ ডিউ টু দুর্নীতি, দ্যাট ইউ হ্যাভ সিন ফ্রম দ্য প্রিভিয়াস রিজিম।”

প্রায় ১১ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বারবার বাংলা ও ইংরেজি ভাষা মিশিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি আগের সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প করলেও সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করেনি। ফলে এখনও অনেক এলাকায় কাঁচা রাস্তা রয়ে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র অল্প সময় দায়িত্বে আছে, তাই তাদের কাজের জন্য সময় দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার ও অর্থমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলকে কৃষি হাব হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা বিরোধী দলের সদস্যরা প্রশংসা করতে পারতেন।

পরে সংসদে তার বাংলা-ইংরেজি মিশ্রিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তার বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা এবং হাস্যরসাত্মক মন্তব্যও দেখা যায়।