নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান বিতরণের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকায় তার মেয়ের নাম পাওয়া গেছে। তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামটি রয়েছে, যার পাশে বাবার নাম লেখা হয়েছে যথাক্রমে মো. বাচ্চু ও মো. আতাউর। প্রতিটি নামের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এমপির ব্যাখ্যা
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না। আমার পিএস একদিন বলল যে তালিকা দিতে হবে। আমি বলেছিলাম, সব ইউনিয়ন থেকে নিয়ে তালিকা নাও। সে বলল, অফিস থেকে বলেছে, একটা তালিকা যেকোনোভাবে দিয়ে, কয়টা নাম দিয়ে তোমরা এটা (বরাদ্দ) নিয়ে যাও। পরে সেটা এমপি সাহেব যেভাবে চাইবেন, ওভাবে বিতরণ করতে পারবেন।’ তিনি আরও জানান, তার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় পিএসের কাছে ছিল। তিনি পিএসকে বলেন, ‘প্যাডে তুমি একটা তালিকা রেডি করে জমা দিয়ে দাও, তোমার চেনা-জানাদের দিয়ে। সেই চেনা-জানা জায়গাগুলোয় আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি ধরে ফেলেছে আরকি।’
অনুদানের টাকা আসার খবর জানতেন না
এমপি দাবি করেন, তালিকা অনুকূলে টাকা আসার খবরও তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) ফেসবুকে আসার পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও বললেন, হ্যাঁ, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে জানান নাই তো। তালিকা তো ওখানে যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমার তো টাকা দিতে হবে ভিন্নভাবে। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।’ তিনি জানান, প্রকৃত তালিকা তিনি ইউএনওদের দেবেন এবং সেই তালিকা অনুযায়ী টাকা বিতরণ করা হবে।
ইউএনওর বক্তব্য
নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি. এম রাহসিন কবির বলেন, ‘এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী দেওয়া তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়ে আসে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ হয়ে এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসে, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকায় দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি তালিকা সংশোধন করতে হয়, তাহলে সচিবালয় থেকেই করে আনতে হবে।’
অভিযোগ ও বিতর্ক
তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এমপির নিজ ইউনিয়ন হবখালীর এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি এমপির শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায় বলে অভিযোগ উঠেছে। মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার এই অনুদান তালিকায় ২১ জনের নাম রয়েছে।



