অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা: বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা: বাজেটে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করে এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” সোমবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক সংকটের বর্ণনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছিলাম। দুর্নীতি, লুটপাট এবং ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, এমনকি সর্বস্ব হারিয়ে মানুষ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে।”

সংসদ নেতা বলেন, “বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছিল এবং টাকার মান ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। অহেতুক ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা লোক দেখানো প্রকল্পের জন্য নেওয়া বিদেশি ঋণ এখন জাতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমরা এই সংকটকে অজুহাত বানাতে চাই না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে আমরা এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করবো।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজেটের আকার ও রাজস্ব লক্ষ্য

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, “আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এই কারণেই আমরা উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছি।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিনিয়োগ ও উন্নয়নের দর্শন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান বিবেচনা হলো— প্রকল্পটি মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে। আমরা ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়তে চাই। শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন তখনই সার্থক হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে। যখন দরিদ্র মানুষ সামাজিক সুরক্ষা পায়, তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পায় এবং কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে উদ্যোক্তারা হয়রানি ছাড়া ব্যবসা করতে পারবেন এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থের নিরাপত্তা পাবেন।”

দেশীয় শিল্প ও ভোলা শিল্প পার্ক

দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্প স্থাপনে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।” ভোলা জেলা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভোলায় যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে, তাকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বিশাল ‘শিল্প পার্ক’ তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে সহজে ফান্ডিং বা লোন পেতে পারেন, সেজন্য আইনকানুন সহজ করা হচ্ছে।”