আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারাদেশে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে পুলিশ। এজন্য সারাদেশের সব ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা জারি
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. কামরুল আহসানের সই করা এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে। এ নিয়ে সংঘর্ষ এবং বাধা দিলে পুলিশের ওপর তারা ক্ষুব্ধ হতে পারে। বিষয়টি অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
ডিএমপির বক্তব্য
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা এই সংক্রান্ত নির্দেশনা পেয়েছি। তবে নির্দিষ্ট কোনো বড় থ্রেট বা হামলার আশঙ্কা নেই। এটি আমাদের নিয়মিত সতর্কতার অংশ।
তিনি আরও বলেন, ২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এটিকে কেন্দ্র করে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চেকপোস্ট অব্যাহত রয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে দলটির সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের একে একে গ্রেফতার করা হয়। বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় দলটির নিয়মিত কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই।
গণ-আন্দোলন দমনে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এর মধ্যেও দেশের দু-একটি জায়গায় মাঝেমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে মাঠপর্যায়ে এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।



