পঞ্চগড়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম ওরফে বিপুল (২৮)। বুধবার দুপুরের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জেলহাজতে (কারাগারে) পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ
এর আগে গত শুক্রবার পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন কুমার রায় বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে দেশের জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন, রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে পোস্টার প্রস্তুত, বিতরণ, লাগানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠক পরিচালনা করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে।
পোস্টার সাঁটানোর ঘটনা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হেলিপ্যাড বাজারসংলগ্ন শিংপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নামফলকে, পরিত্যক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ অফিসের গেটে এবং লোহার তৈরি ত্রিভুজ আকৃতির ট্রাফিক সিগন্যালের মাঝখানে মোট তিনটি রঙিন পোস্টার আঠা দিয়ে লাগানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে দেখতে পায়, পোস্টারগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি এবং নৌকা প্রতীকের ছবি রয়েছে।
মামলায় উল্লেখিত অন্যান্য আসামি
মামলায় পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকলেছার রহমান, ছাত্রলীগের পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান সাকিক পাটোয়ারী, পৌর কৃষকলীগের সভাপতি আকতারুন নাহার, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ, পৌর যুবলীগের সভাপতি হাসনাত মো. হামিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিমসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
আজ বিকেলে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে (কারাগারে) পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।”



