পশ্চিমবঙ্গে আই-প্যাকের ২০ দিনের ছুটি ঘোষণায় উত্তপ্ত রাজনীতি, মমতা বললেন 'বিজেপির ষড়যন্ত্র'
আই-প্যাকের ছুটি ঘোষণায় উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, মমতা বললেন 'বিজেপির ষড়যন্ত্র'

পশ্চিমবঙ্গে আই-প্যাকের ২০ দিনের ছুটি ঘোষণায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা আই-প্যাক বা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি গতকাল রোববার তাদের কর্মীদের জন্য ২০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। সংস্থার সল্টলেকের সদর দপ্তর আগামী ১১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং এরপর নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া

এই ঘোষণায় ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, "এটি সম্পূর্ণ অসত্য খবর এবং বিজেপির একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, আই-প্যাক বন্ধ হয়নি এবং তাদের কর্মীরা প্রয়োজনমতো তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তাদের বেতন বন্ধ হবে না, বেতন অব্যাহত থাকবে।"

কয়লা পাচার কাণ্ড ও ইডির তদন্তের পটভূমি

এই ঘটনার আগে পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা পাচার কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে আই-প্যাকের বিরুদ্ধে। মূল অভিযোগ হলো, কয়লা পাচার থেকে প্রাপ্ত কালোটাকা আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে এবং সেই অর্থ গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে ব্যয় করা হয়। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি আই-প্যাকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্প্রতি ইডি এই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তের জন্য আই-প্যাকের অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাসভবন এবং সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের কার্যালয়ে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই খবরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত প্রতীক জৈন ও আই-প্যাকের দপ্তরে পৌঁছে যান এবং সেখান থেকে কিছু নথি ও ল্যাপটপ নিয়ে চলে আসেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা পাল্টা মামলার রাজনৈতিক সংঘাত

এই ঘটনার পর ইডি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আই-প্যাকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন, যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এসব উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আই-প্যাকের ২০ দিনের ছুটি ঘোষণা রাজনৈতিক গুঞ্জনকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

আই-প্যাকের ইতিহাস ও বর্তমান মালিকানা

আই-প্যাক কলকাতার একটি নামী ভোটকুশলী বা নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালে এই সংস্থা গড়ে তোলেন প্রশান্ত কিশোর, যিনি পরে এটি বিক্রি করে দেন প্রতীক জৈনের কাছে। প্রশান্ত কিশোর আই-প্যাক ছাড়ার পর তাঁর রাজ্য বিহারে ফিরে যান এবং সেখানে জন সুরজ পার্টি নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

প্রশান্ত কিশোরের সময় আই-প্যাকের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে আই-প্যাকের মালিকানায় রয়েছেন প্রতীক জৈন, ভিনেশ চান্ডার এবং ঋষিরাজ সিং। মালিকানা বদল হলেও সংস্থাটির তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং তারা এবারও দলের নির্বাচনী পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে।

ইডির চলমান তদন্ত ও গ্রেপ্তার

গতকাল আই-প্যাকের অন্যতম পরিচালক ঋষিরাজ সিংকে ইডি তলব করে এবং আজ সোমবার তাঁকে ইডির দিল্লি দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। এর আগে এই সংস্থার অন্যতম পরিচালক বিনেশ চান্দেলকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করে ইডি। এই তদন্তের মধ্যেই আই-প্যাকের ছুটি ঘোষণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেছেন, "আই-প্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ চালিয়ে যাবে এবং দলই তাদের বেতন প্রদান করবে।" এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।