সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনৈতিক বঞ্চনা: ৫৪ বছরে মাত্র এক এমপি পদ, নেতাদের ক্ষোভ
সিদ্ধিরগঞ্জের বঞ্চনা: ৫৪ বছরে মাত্র এক এমপি পদ

সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনৈতিক বঞ্চনা: ৫৪ বছরে মাত্র এক এমপি পদ, নেতাদের ক্ষোভ

স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে ২৪ জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীরা। কিন্তু দল ক্ষমতায় এলে তারা কাঙ্খিত পদ পান না সরকার বা দলের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভে ভুগছেন এলাকার নেতাকর্মী ও বাসিন্দারা। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে সিদ্ধিরগঞ্জ পেয়েছে মাত্র একবার এমপি পদ, একবার শাখা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির পদ ও একবার জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদ।

নির্বাচনে আবারও বঞ্চনা

সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের কাউকে এমপি পদে নমিনেশন পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এবারও তাদের বঞ্চিত করা হয়। বিএনপি বা জামায়াত ইসলাম থেকে নমিনেশন দেওয়া হয় সোনারগাঁয়ের আজহারুল ইসলাম মান্নান ও জামায়াতের ইকবাল হোসেনকে।

সিদ্ধিরগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

স্বাধীনতার পর থেকে ডেমরার সুলতানা কামাল সেতু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলের ১৮টি জেলার সঙ্গে ঢাকার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিল সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়। এ রাস্তা বন্ধ হলে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতো, তাই বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা প্রতিটি সরকারের জন্য মাথাব্যথার কারণ ছিলেন। এছাড়া এশিয়ার বৃহত্তম আদমজী জুট মিল, আদমজী ইপিজেড, বিমানের জেট ফুয়েল ডিপো পদ্মা, মেঘনা অয়েল ডিপো ও সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অনেক কারখানা রয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দলগুলোর উদাসীনতা

বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মতে, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিদ্ধিরগঞ্জের দিকে কেন্দ্রীয় নেতৃবর্গ সবসময় উদাসীন। নেতাকর্মীদের ত্যাগ, ঘাম ও রক্ত বিসর্জনের পরও ক্ষমতায় আসার পর দলগুলো নিজেদের সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাদের ভুলে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পদপ্রাপ্তির ইতিহাস

স্বাধীনতার পর সিদ্ধিরগঞ্জ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শুধু গিয়াস উদ্দিন এমপি পদ পেয়েছেন। আব্দুল মতিন মাস্টারকে জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি করা হয়েছিল, যিনি ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ওয়ান ইলেভেনের পর তাকে এমপি করার কথা থাকলেও নমিনেশন না দিয়ে সোনারগাঁয়ের কায়সার হাসনাতকে দেওয়া হয়। এবার অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয়েছে।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, "দলগুলো আমাদেরকে অনেক বঞ্চিত করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের নেতাদের তেমন পদ-পদবী দেয়নি। এতে ভালো ছেলেরা রাজনীতিতে না আসার শঙ্কা তৈরি হতে পারে।"

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, "সিদ্ধিরগঞ্জের যোগ্য ব্যক্তিদের আরো পদ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। জাতীয় নীতিনির্ধারকদের সুষম বন্টন করে সিদ্ধিরগঞ্জকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।"

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, "এতদিন সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন থেকে তাদের মূল্যায়ন করবেন।"