নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২২০০ লিটার ডিজেল লুটের অভিযোগ, তেলের মূল্য ২.৬ লাখ টাকা
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ডিজেল লুটের অভিযোগ, নোয়াখালীতে ঘটনা

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ডিজেল লুটের অভিযোগ, তেলের মূল্য ২.৬ লাখ টাকা

নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাইজচরা এলাকায় একটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২২০০ লিটার ডিজেল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই লুট হওয়া তেলের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও সময়কাল

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আন্ডারচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের চৌধুরী বাজার এলাকায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগী ট্রলার মালিক মো. সিরাজ মাঝি জানান, চট্টগ্রামে সাগরে মাছ ধরায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারির পর তার পাঁচটি ট্রলার লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে স্থানান্তর করা হয়। ওই ট্রলারগুলোর জ্বালানির জন্য চট্টগ্রামের একটি ডিপো থেকে ২২০০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করা হয়েছিল।

গভীর রাতে তেলবাহী পিকআপ ভ্যান চৌধুরী বাজার এলাকায় পৌঁছালে, বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা গাড়িটি আটক করে। পরে চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়িসহ পুরো ডিজেল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় চালকের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা ও একটি মেশিনের কুলারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন বুধবার সকালে চৌধুরী বাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পিকআপটি উদ্ধার হয়, যা ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, নিজাম উদ্দিন এখন তেল ফেরতের বিনিময়ে ১ লাখ টাকা দাবি করছেন, যা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী তা অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃত লুটকারীদের পরিচয় ভুক্তভোগী জানলেও তাদের নাম না বলে তার নাম জড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে এই অভিযোগ মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং নিজেই তেল উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ব্যর্থ হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানান, যা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগ নির্দেশ করে।

স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল

এই ঘটনা নোয়াখালী এলাকায় অপরাধ ও রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানাচ্ছেন, বিশেষ করে জ্বালানি চুরির মতো ঘটনাগুলো যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে সহায়ক হতে পারে।