টাইমের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টাইমের ১০০ প্রভাবশালীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টাইমের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন টাইম প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় 'লিডারস' বা নেতা ক্যাটাগরিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ আগামীর পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতি

টাইম-এর বিশেষ প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে রাষ্ট্র সংস্কারে তার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পর মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং 'ফামার্স কার্ড'র মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান সবুজে ঘেরা লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে এই রাজনৈতিক উত্তরসূরী বিরোধী আন্দোলনের কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন। এই নিয়তি তিনি ফেব্রুয়ারিতে বাস্তবে রূপ দেন, ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর নির্বাচন ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ ও শোককে শক্তিতে রূপান্তর

এই বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তারেক রহমান ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই মারা যান খালেদা জিয়া। গত জানুয়ারিতে টাইম-এর সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সময়ও তিনি শোকাহত ছিলেন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই শোককে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করে তুলবেন।

বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ

এদিকে ১০০ প্রভাবশালী তালিকায় উল্লেখযোগ্য আরও আছেন:

  • গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই
  • পোপ লিও চতুর্দশ
  • ভারতের অভিনেতা রণবীর কাপুর ও অভিনেত্রী ডকোটা জনসন
  • ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি
  • মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
  • ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ
  • ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
  • নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং প্রমুখ

বিএনপির নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান স্থান পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, 'গভীর আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে অবহিত করছি যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালে টাইমের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির বর্ণাঢ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন।'

তিনি আরও লিখেন, 'বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে।' একটি কঠিন সময়ে, যখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, তখন তারেক রহমান দৃঢ়তা, সাহস এবং অটল বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন।

গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে বিবেচনা

মাহদী আমিনের মতে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু লড়াই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা আজ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত। স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যেদিন ফিরেছেন সেদিনই তিনি বলেছিলেন 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান'

একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমন্বিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে চমৎকারভাবে অগ্রসর হয়েছে। টাইম-এর এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি।

তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনও বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আজকে টাইম থেকে পাওয়া এই সম্মান আমাদের সবার। এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের, যারা বিশ্বাস করে গণতন্ত্র অপরাজিত, জনতার শক্তি কখনও হার মানে না। আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়।