ধামরাইয়ে এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫-২০ জন আহত, নতুন কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
ধামরাইয়ে এনসিপির সংঘর্ষে ১৫-২০ জন আহত, নতুন কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে উত্তেজনা

ধামরাইয়ে এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫-২০ জন আহত

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সহিংস ঘটনাটি সংঘটিত হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

নতুন কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত

দলীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নবগঠিত ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির উদ্যোগে কালামপুর এলাকায় একটি নতুন দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে ধামরাই উপজেলা শাখার একটি পক্ষ সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এই বাকবিতণ্ডা দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে লাঠিসোটা ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, তবে গুরুতর আহতদের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ

নবগঠিত ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ সংঘর্ষের পর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, “কমিটি আত্মপ্রকাশের কারণে অনেকের ‘জুলাই ব্যবসা’ বন্ধ হয়ে যাবে। সেই ক্ষোভ থেকেই তারা এই হামলা চালিয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, যারা জুলাই শহীদদের পরিবারের ওপর এবং সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, এনসিপি তাদের সমর্থন করে না। এই ঘটনায় তাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অপরদিকে, হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে ধামরাই উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ইসরাফিল ইসলাম খোকন বলেন, “স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই ঢাকা জেলা উত্তর কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, ঢুলিভিটা এলাকায় ১৬ মাস ধরে দলীয় কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন কার্যালয় করা হচ্ছে, এবং তা জানতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই সংঘর্ষে তিনি নিজে সহ মোট ৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

পুলিশের তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানিয়েছেন, এনসিপির দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। ওসি নাজমুল হুদা খান স্পষ্ট করে বলেন যে, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা এই সংঘর্ষের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

এই ঘটনা এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও রাজনৈতিক সহিংসতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে দলীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।