কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিস দখল নিয়ে তীব্র বিতর্ক
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে নিজেদের মালামাল রেখে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রতিবাদ
ঘটনার পরপরই এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, বিএনপি এটিকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না এবং এটি মহিলা দল নেত্রীর ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়।
মহিলা দল নেত্রী ও স্বামীর পাল্টা দাবি
সালমা বেগম লিলি ও তার স্বামী মিলন বেপারী জোর দিয়ে বলছেন, এটি তাদের ভূসম্পত্তি। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রয়াত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুবুর রহমান জোরপূর্বক ফলজ গাছ কেটে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেছিলেন। মিলন বেপারী মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, "আমি কোনো তালা ভাঙিনি, ওটা খোলা ছিল। আমার বাসার কয়েকটি গাছ ঝড়ের আঘাতে পড়ে যাওয়ায় সেগুলো কেটে ওখানে রেখেছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ওই জায়গা আমার। এতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতার দাপটে দখল করে রেখেছিল। আমার যথাযথ কাগজপত্র আছে। এ বিষয় নিয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।"
আওয়ামী লীগের দাবি ও বিএনপির অবস্থান
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র দাবি করে, সরকারের কাছ থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ৯৯ বছরের জন্য ওই দুই শতক খাসজমি দলীয় কার্যালয়ের জন্য বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর পৌরসভা থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন নিয়ে দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব তালুকদার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উপজেলা বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, "বিএনপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। এটা লিলি বেগমের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব; দল এর কোনো দায় নেবে না।"
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উত্তেজনার পটভূমি
সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির উপজেলা কার্যালয়ে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়েছিল। সে সময় দলীয় কার্যালয়ের এসি, সিলিং ফ্যানসহ মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। সালমা বেগম লিলি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমার বিয়ের আগে থেকেই দেখেছি ওই জায়গা আমার শ্বশুরের ছিল। গত ১৫ বছর উচ্চশব্দের মাইক ব্যবহার করে তারা ওখানে তাদের দলীয় অনুষ্ঠান পালন করেছেন, যা শব্দদূষণের অত্যাচার তৈরি করেছে।"
বর্তমানে এই ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই বিবাদ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।



