জামায়াতের নারী প্রার্থী নির্বাচনে পরিবারতন্ত্র নয়, যোগ্যতাই মুখ্য: মোবারক হোসেন
জামায়াতে ইসলামী নারী আসনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্রের পরিবর্তে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ বক্তব্য রাখেন।
যোগ্যতা ভিত্তিক প্রার্থী নির্বাচন
মোবারক হোসেন বলেন, "জামায়াত এমন নারী প্রার্থী খুঁজছে যিনি সংসদে গিয়ে নারীদের পক্ষে এবং জাতির পক্ষে বলিষ্ঠভাবে কথা বলতে পারবেন।" তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের মতো প্রার্থী দেওয়ার পদ্ধতি জামায়াত অনুসরণ করবে না। পরিবারতন্ত্রের বদলে যোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলেই জাতি এর প্রমাণ পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলের এমপিদের বৈষম্য
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোবারক হোসেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ভাগবাটোয়ারায় বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বিরোধী দলে থাকায় অনেক এমপি ভাগবাটোয়ারায় কম পাচ্ছেন এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।" এই বিষয়ে জামায়াত সংসদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বলে তিনি জানান।
এমপিদের দক্ষতা উন্নয়ন
জামায়াতের সংসদ সদস্যদের বিষয়ে মোবারক হোসেন বলেন, "আমাদের এমপিরা বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে দলের নেতৃত্বে এসেছেন। তাদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, এমপিদের প্রশিক্ষিত করার জন্য আলাদা সেল রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা জামায়াত ইতিমধ্যে তৈরি করে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, "ছায়া মন্ত্রিসভার প্রস্তাব সরকার গ্রহণ না করায় আমরা আমাদের এমপিদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোনিবেশ করছি।" এর উদ্দেশ্য হলো, তারা সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণের বঞ্চনার কথা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারেন। বিভিন্ন উপজেলায় জামায়াতের এমপিরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং জনগণের উন্নয়নে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মোবারক হোসেন রাষ্ট্র পরিচালনায় গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "একটি সংবাদ বা ছবি পুরো দেশের চিত্র বদলে দিতে পারে, এমনকি দেশে বিপ্লব ঘটাতে পারে।" তাই সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি সঠিক সংবাদ সংগ্রহ, পরিবেশন এবং জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার বিবেক ও বুদ্ধি প্রয়োগের আহ্বান জানান।
উপস্থিত ছিলেন যারা
মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন:
- জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী
- যশোর সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের
- জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস
- দপ্তর সম্পাদক নুর-ই আলী নুর মামুন
- প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস প্রমুখ



