যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম ও অধীনতামূলক বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশের নেতৃত্ব ও বক্তব্য
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়ক মিতু সরকার। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি কাজী ইকবাল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সহ-সভাপতি দীপা মল্লিক এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক রফিক আহমেদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক সৌরভ রায়।
ফয়জুল হাকিম তার বক্তব্যে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন পূর্বে এই গোপন চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের অভিপ্রায়ের সঙ্গে বেঈমানী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার উচ্ছেদের লক্ষ্যেই ছিল না, বরং বৈদেশিক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য থেকে মুক্তির জন্যও সংঘটিত হয়েছিল।
রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা
ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির মতো রাজনৈতিক দলগুলো এই চুক্তির বিষয়ে বিস্ময়করভাবে নীরবতা পালন করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় সংসদে এই গোপন চুক্তির বিষয়ে কোনো আলোচনা বা প্রশ্ন উঠেনি, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি একটি গুরুতর অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
চুক্তির প্রভাব ও প্রতিরোধের আহ্বান
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় সংসদ নয়, বরং রাজপথই জনগণের ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। এই চুক্তি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে এবং শিল্প ও কৃষি খাতের বিকাশকে খর্ব করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফয়জুল হাকিম বিশ্বাস করেন যে, জনগণ অবশ্যই এই চুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, বিশ্ব সন্ত্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরান, ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার মতো দেশগুলোতে যে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠছে, বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামও তার সাথে যুক্ত হবে। এই বিক্ষোভ সমাবেশটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করেছে, যা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষ প্রকাশ করে।



