জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্যের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে এবং গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে না নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরাও গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন, কিন্তু গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ার পর বিএনপি তা মানছে না।
প্রধানমন্ত্রীর ভোট অস্বীকারের প্রশ্ন
তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান আজকের প্রধানমন্ত্রী যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে তিনি কেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছেন না। পরওয়ার বলেন, ‘গণভোট বাতিল করার অর্থ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিজের দেওয়া ভোটকে নিজে অস্বীকার করছেন।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি যেন স্পষ্ট করেন যে গণভোটে তিনি হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন নাকি না ভোট দিয়েছিলেন।
রাজপথে আন্দোলনের হুমকি
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, সংসদে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে রাজপথেই সমাধান হবে। তার মতে, সরকারের যাত্রা ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করার ইঙ্গিত বহন করছে।
অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন বিএনপির দ্বিচারিতা আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি নির্বাচন হলেও বিএনপি একটি নির্বাচনকে বৈধ এবং অন্যটিকে অবৈধ বলছে, যা বিশ্বাসঘাতকতা।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা গণভোটের রায় মেনে নেবে, কিন্তু ৫১ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করছে। তিনি সতর্ক করেন, বিএনপি যদি গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে তাদের নির্বাচনী রায়ও বৈধ বলে বিবেচিত হবে না।
সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি
উল্লেখ্য, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য ৯ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণসংযোগ অভিযান কর্মসূচি পরিচালনা করবে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, এবি পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা একযোগে বিএনপি সরকারের গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।



