নারায়ণগঞ্জে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ আহত ৮
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানার ঝুট দখল নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক পথচারী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার পঞ্চবটি চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট গার্মেন্টসের’ সামনে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি ও ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদের অনুসারীদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে ‘বেস্ট স্টাইল গার্মেন্টস’ থেকে ঝুট নামানোর অধিকার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে ঝুট দখলকে কেন্দ্র করে অভি ও মাসুদের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা মিয়ার ছেলে রাকিব (২২) এবং স্থানীয় আসমাউল হোসেনের ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্র ইমরান হোসেন (১২)। ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
আহতদের অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া
ইমরানের বাবা আসমাউল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলের পেটে গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছি। এখনও সেখানে ভর্তি আছে।’ অন্যদিকে, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি দাবি করেন, ‘কারখানাটি থেকে আজ ঝুট নামানোর কথা ছিল। যারা বৈধভাবে ঝুট নামাচ্ছিলেন, তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, এটি পুরোপুরি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব। আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।’
ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মাসুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘আমি এই ঘটনায় জড়িত নই। সংঘর্ষের খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।’
পুলিশের তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘ঝুট নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুইজন গুলিবিদ্ধের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



