খুলনার কয়রায় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ
কয়রায় রাকসু জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

খুলনার কয়রা উপজেলায় রাকসু জিএসের বিরুদ্ধে বিএনপির তীব্র বিক্ষোভ

খুলনা বিভাগের কয়রা উপজেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার প্রধান সড়কে ঝাড়ু হাতে এই মিছিল বের করা হয়, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে উত্তেজনাপূর্ণ কর্মসূচি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা ছিলেন। সমাবেশ শেষে সালাহউদ্দিন আম্মারের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ সমাবেশে বলেন, 'রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত আপত্তিকর ও নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আম্মারকে কয়রা উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। আপনারা যেখানেই তাঁকে পাবেন, সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেবেন।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও হুমকি

কয়রা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, 'তারেক রহমানকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য আমাদের হৃদয়ে গভীর আঘাত হেনেছে। ভবিষ্যতে কয়রায় আম্মারের উপস্থিতিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।' স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, সালাহউদ্দিন আম্মার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা এবং সম্প্রতি তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে তারেক রহমানের ছবির সঙ্গে শেখ হাসিনার চেহারা সংযোজন করে একটি ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। এর আগে গত বুধবার উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে থাকা সালাহউদ্দিন আম্মারের ব্যানার খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা, যা বিক্ষোভের পূর্বাভাস দিয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আম্মারের প্রতিক্রিয়া ও দাবি

আজ আম্মারের ফেসবুক আইডিতে ব্যঙ্গচিত্রটি আর দেখা না গেলেও তিনি নিজের ফেসবুক পেজে দাবি করেন, তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেননি; বরং এটি 'সাইবার আক্রমণের' মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পক্ষে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন। কয়রা উপজেলায় নিজের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও ফেসবুক পেজে শেয়ার করে আম্মার লিখেছেন, 'এলাকার বিএনপির সদস্যসচিব আমার নিজের মামা। তাঁর নেতৃত্বেই আমার ব্যানার পোড়ানো হয়েছে এবং আজ মিছিলের ভিডিওতেও তাঁকে দেখতে পেয়েছি।'

এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।