মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার পাম্পে পেট্রল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এনএসআই অভিযান
আওয়ামী লীগ নেতার পাম্পে পেট্রল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এনএসআই অভিযান

মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার পাম্পে পেট্রল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এনএসআই অভিযান

জ্বালানি সংকটের আড়ালে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় একটি পেট্রল পাম্প থেকে সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলাকালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) অভিযান চালিয়ে ট্যাংকলরিসহ জব্দ করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বরংগাইল এলাকায় রুমি ফিলিং স্টেশনে এই অভিযান চালানো হয়।

পাম্প মালিকের রাজনৈতিক পরিচয়

পাম্পটির মালিক আব্দুর রহিম খান, যিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি নিয়ে আসা একটি লরি পাম্পে পৌঁছানোর পর ৯ হাজার লিটার ডিজেল নিয়মমাফিক খালাস করা হয়।

তবে বাকি সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রল অদৃশ্য পথে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল, যার লক্ষ্য ছিল শিবালয় উপজেলা পরিষদের বিপরীতে টেপড়া এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়ামের ডিলার মামুন এন্টারপ্রাইজ। অভিযান চলাকালে হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে বলে এনএসআই দাবি করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লরির পালানোর চেষ্টা ও আটক

গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতি টের পেয়ে লরিটি প্রথমে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু পরে আবার ওই আওয়ামী লীগ নেতার পাম্পেই ফিরে আসে। সেখান থেকেই লরিটি আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিয়ে সেই তেলই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল মামুন এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানে।

অথচ ওই ডিলারের পেট্রল বিক্রির কোনো অনুমোদন নেই। পরে সেই তেল ঘুরে আরও চড়া দামে খুচরা বাজারে পৌঁছায়, যার ফলে ভোক্তাদের প্রতি লিটার পেট্রল নিতে গুণতে হচ্ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, যা সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি ঘটনাস্থলে আছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পরে জানানো হবে।" এই ঘটনায় জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা নিয়ে।

এনএসআইয়ের এই অভিযানটি দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা তেল পাচার ও অবৈধ বাণিজ্য রোধে কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা নির্দেশ করে।