কুমিল্লা দক্ষিণ মিনি স্টেডিয়ামের অস্তিত্ব নিয়ে সংসদে তীব্র প্রশ্ন
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে কুমিল্লা দক্ষিণ মিনি স্টেডিয়ামের কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। রবিবার (৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাতিল নোটিশের ওপর আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্টেডিয়ামের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি
মনিরুল হক চৌধুরী সংসদকে বিস্তারিত জানান, ২০০৪ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সৃষ্টির পর সেখানে একটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর প্রশাসনিকভাবে এর নামকরণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলেও বর্তমানে এর কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেও কুমিল্লা জেলায় এই নামে কোনও স্টেডিয়াম খুঁজে পাইনি। অথচ সরকারি নথিতে বলা হচ্ছে স্টেডিয়াম সেখানে আছে।” এই অবস্থা ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
জালিয়াতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ
মনিরুল হক চৌধুরী আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, জালিয়াতির মাধ্যমে স্টেডিয়ামের জমি রেকর্ড, অর্থ লুটপাট এবং ফাইল চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের ফলে স্টেডিয়ামটি প্রকৃতপক্ষে নির্মাণ বা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি স্টেডিয়ামের বিষয় নয়, বরং জনগণের সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।” এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ক্রীড়া প্রেমীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা
স্টেডিয়ামটি উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট অনিয়মের তদন্তের জন্য মনিরুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং স্টেডিয়ামের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করা হয়।” এই আবেদন সংসদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এবং সরকারি মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। মনিরুল হক চৌধুরীর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।



