৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা অসম্ভব: মামুনুল হকের সতর্কবার্তা
৭০% জনগণের বিপক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না: মামুনুল হক

৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা অসম্ভব: মামুনুল হকের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে জুলাই সনদ কার্যকর এবং গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করার পরিণাম

মামুনুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যদি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হয় এবং গণরায়কে হাইকোর্ট দেখানো হয়, তবে এ দেশের মানুষ রাজপথে সরাসরি মোকাবিলা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের রাজনীতি জনগণ আর সহ্য করবে না। তার মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

বিএনপির রাজনীতির প্রতি কঠোর অভিযোগ

মামুনুল হক বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রবর্তিত যেসব অধ্যাদেশ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সেগুলো বিএনপির খুব পছন্দ। কিন্তু যেসব প্রস্তাবনা জাতির কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে, সেগুলোই তাদের কাছে অপছন্দের। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বিএনপি জনসম্মুখে এক কথা বললেও নেপথ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপি প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, তলে তলে এক কথা আর প্রকাশ্যে আরেক কথা বলাকে আমাদের দেশে মুনাফেকি বলা হয়। তার মতে, বিএনপির রাজনীতির দুটি বুনিয়াদ আজ জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে—একটি হলো মুনাফেকি, অন্যটি সুবিধাবাদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুবিধাবাদের রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্কতা

মামুনুল হক দৃঢ়ভাবে বলেছেন, বিএনপি সুবিধাবাদের রাজনীতি বেছে নিয়েছে, কিন্তু এই দেশের জনগণ কখনোই সুবিধাবাদের রাজনীতি মেনে নেবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, এই দেশের জনগণের কোনো রায়কে যদি হাইকোর্ট দেখানো হয়, তবে জনগণ রাজপথে সরাসরি জবাব দেবে। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকার।

সমাবেশের অন্যান্য বক্তারা

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন:

  • খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের
  • জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ
  • এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপি
  • লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান

বিক্ষোভ মিছিলের বিবরণ

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিলে জুলাই সনদ কার্যকর এবং গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়।

মামুনুল হকের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যেখানে জনগণের ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তার সতর্কবার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার টিকতে পারবে না