গণসংহতি আন্দোলনে নেতৃত্ব পরিবর্তন: জোনায়েদ সাকি প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন
রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির জোটসঙ্গী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তবে তিনি দলটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দেওয়ান আবদুর রশিদ
জোনায়েদ সাকির স্থলে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও প্রবীণ কৃষক নেতা দেওয়ান আবদুর রশিদ, যিনি নীলু নামে পরিচিত। শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
আবুল হাসান ব্যাখ্যা করেন যে, দলীয় প্রধান এবং সরকারের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একইসঙ্গে পালন না করার নীতিগত অবস্থান থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "দল ও সরকারের দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
জোনায়েদ সাকির বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে জোনায়েদ সাকিও তার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেও তিনি গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, "দলের উন্নয়ন ও গণসংহতির লক্ষ্য অর্জনে আমি সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত থাকব।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার
- রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হাসান মারুফ
- রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভুইয়া
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দীপক কুমার রায়
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তরিকুল সুজন
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জাহিদ সুজন
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বেনু আক্তার
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাহসিন মাহমুদ
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু রায়হান খান
গণসংহতি আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমি
গণসংহতি আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট, বেশ কয়েকটি গণসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে। ২০১৫ সালে দলের তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত দলটির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে জোনায়েদ সাকি প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন।
জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক অর্জন
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জোনায়েদ সাকি নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এরপর তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার এই রাজনৈতিক সাফল্য দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতৃত্ব পরিবর্তন দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দলটির সংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



