গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাকি নিজেই এ ঘোষণা দেন।
রাজনৈতিক দল ও সরকারের দায়িত্ব আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত
জোনায়েদ সাকি জানান, রাজনৈতিক দল ও সরকারের দায়িত্ব আলাদা রাখার লক্ষ্যেই তিনি দলীয় প্রধানের পদ ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই প্রাধান্য পাবে।’ এই সিদ্ধান্তটি দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকি
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গণসংহতি আন্দোলনের পঞ্চম কাউন্সিলে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। ওই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের একটি নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়। এই কাউন্সিলটি দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন সাকি
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তিনি প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরে তাকে শুধুমাত্র পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই পদত্যাগের ফলে গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুর নেতৃত্বে দলটি কীভাবে এগোবে, তা এখন দেখার বিষয়।



