ছাবের আহমদের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি: হলফনামায় আজীবন প্রতিশ্রুতি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের অপসারিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছাবের আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি ছেড়েছেন। তিনি একটি হলফনামার মাধ্যমে আজীবনের জন্য রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
হলফনামার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে ছাবের আহমদ দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেন। এই হলফনামা রোববার (২৯ মার্চ) স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, এই পদটি তিনি নিজের উদ্যোগে নেননি, বরং জেলা পর্যায়ের নেতারা তাকে দিয়েছেন।
রাজনীতি থেকে দূরত্বের কারণ
ছাবের আহমদ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তিজনিত কারণে দলীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই স্বেচ্ছায় ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং এখন থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না।
তিনি আরও বলেন, তিনি কখনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি এবং সক্রিয় রাজনীতিও করেননি। জীবনের বাকি সময় তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বিতর্কিত অতীত ও রাজনৈতিক পটভূমি
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৯ মে ইউপি নির্বাচনে ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের শৌচাগারে ঢুকে নৌকা প্রতীকে ৪০০ ব্যালটে সিল মারার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন ছাবের আহমদ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে বিপুল পরিমাণ ব্যালটসহ তাঁর আটক হওয়ার সংবাদ প্রথম আলোসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় পরদিন।
তবে তিনি ওই সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ পান। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে না পারলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে আবারও চেয়ারম্যান হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জানতে চাইলে ছাবের আহমদ বলেন, 'আমি জীবনেও আর রাজনীতি করবো না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত কোনো দলই করব না। তবে সমাজসেবা চালিয়ে যাব।' তাঁর এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ছাবের আহমদের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তাঁর হলফনামা ও ঘোষণা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



